ভ্রমণ

চারু দিদির বাড়ি


  • নওসিন সাদিয়া  |
  • প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৭
চারু দিদির বাড়ি
ছবি: জীবনজয়ী

ছোটবেলা থেকে একটা স্বপ্ন বুনি। গ্রামের মেঠো পথে কিছুদূর হাঁটলে কদমফুলের গন্ধ আর কৃষ্ণচূড়া, লাল-সোনালুর মায়ায় যে বাড়িটা চোখে পড়বে, সেটাই হবে আমার। ছোট্ট দোতলা বাড়ি, সামনে বিশাল বারান্দা। বর্ষার দিনে সেখানে থাকবে ভেজা মাটির গন্ধভরা বাতাস আর জানালার ফাঁক গলে আসা বিকেলের আলো। সেখানে থাকবে না শহুরে হট্টগোল, থাকবে না যেন-তেন আসবাবের ভিড়। থাকবে শুধু নির্জনতা, প্রশান্তি আর ভালোবাসা।

ভাগ্যক্রমে গবেষণার কাজে একটি ফিল্ড ট্রিপে গিয়ে এমনই এক স্বপ্নের বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারমশাইয়ের সুবাদে পুরো টিম দুপুরের আহারের নিমন্ত্রণ পেলাম এক মণিপুরী বাড়িতে। চারু দিদির বাড়ি। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মাঝের গাঁওয়ে দিদির বাড়ি।

ঝড়-বাতাস মাথায় নিয়ে পথ হারিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা চা-বাগান আর রাবারবাগানে ঘুরে অবশেষে চারু দিদির বাড়িতে পৌঁছালাম দুপুর নাগাদ। গাড়ি থেকে নেমে সবাই একছুট। ততক্ষণে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। কাঁচা রাস্তায় প্রায় দৌড়ে গিয়ে আল্পনা আঁকা সেই স্বপ্নের বাড়ির দোরগোড়ায় গিয়ে দাঁড়ালাম।

[এখানে পড়ুন: বাংলায় বতুতা] 

চারু দিদি ফুল দিয়ে বরণ করলেন আমাদের মাস্টারমশাইকে। আর সবার হাতে তুলে দিলেন রোজমেরির জুস। জানালার ধারে বসে বৃষ্টি উপভোগ করতে করতে নতুন এই পানীয়ের স্বাদের সঙ্গে ধীরে ধীরে মিশে গেলাম চারু দিদির ঘরের উষ্ণতায়।

কিছুক্ষণ পর ইতস্তততা কাটিয়ে চারু দিদির পিছু পিছু পুরো টিম উঠে পড়লাম দোতলায়। সবার চোখে বিস্ময়। কাঠের সিলিং, খোলা বারান্দা আর ঘরের আন্তরিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হলাম সবাই।

মেয়েরা বৃষ্টিভেজা বারান্দায় ছবি তোলা আর গল্পে মেতে উঠল। ছেলেরা মেঝেতে পাতা বিছানায় এলিয়ে পড়ল। কাঠের অন্দরমহলের সৌন্দর্য দেখে আমি আর স্বর্ণাপু ব্যস্ত হয়ে পড়লাম স্মৃতি সংরক্ষণে। তবে মনের কোটরে নয়, ফোনের গ্যালারিতে।

চারু দিদির মাসি এসে শুরু করলেন ভাষাশিক্ষার পর্ব। দুপাশে পাতা বিছানায় তাঁকে ঘিরে আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়লাম বাংলা থেকে মণিপুরী, আবার মণিপুরী থেকে বাংলা ভাষার খেলায়। আড্ডায় এতটাই মেতে উঠেছিলাম যে নিচ থেকে মাস্টারমশাইয়ের ডাকে সাড়া না দিয়ে ওপরের ঘরেই থেকে যাওয়ার অজুহাত খুঁজছিলাম সবাই।

দুপুরে চারু দিদি খাওয়ালেন তাঁদের নিজস্ব রেসিপির নানা পদ। খাওয়া শেষে তিনি নিজের সুর ও কথায় একটি মণিপুরী গান শোনালেন। মাসি পরিবেশন করলেন নৃত্য। আমরা হইচই করে মেতে উঠলাম আরও কিছুক্ষণ।

[এখানে পড়ুন: ঘুরে দেখা দুনিয়া]

কিন্তু সন্ধ্যা হওয়ার আগেই ঢাকায় ফেরার তাগাদা এল। তাড়াহুড়ো করে বিদায় নিতে হলো চারু দিদির বাড়ি থেকে। গ্রাম ছেড়ে রাসমণ্ডপ পেরিয়ে ভানুগাছার দিকে এগোতে এগোতে এক অদ্ভুত মন খারাপ ভর করল। বাকিরা ঢাকায় ফেরার তাগাদায় ব্যস্ত হয়ে পড়ল ঠিকই, কিন্তু আমি মনে মনে একটা আফসোস করতেই থাকলাম। ইশ্, একটা রাত যদি থেকে যেতে পারতাম! 


ক্যাটাগরি: ভ্রমণ

         

  রেটিং: ৫

এই বিভাগের আরও পোস্ট

জীবনজয়ী ইতিবাচক বিষয়াদি নিয়ে সাজানো একটি বাংলা ওয়েবসাইট। উচ্ছ্বাস–উল্লাস–উৎসব এই সাইটের প্রাণকথা। সম্প্রীতি–সহমর্মিতা ও দয়াধর্ম-মানবতাকে উচ্চে রাখে জীবনজয়ী।